অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান ২০১৩ : দ্বিতীয়াধ্যায় : পর্ব ২

nanodesigns

« অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান : প্রথমাধ্যায়

« আগের পর্ব

আমরা ছিলাম ১০জন, ৭জন তাদের ভ্রমণ শেষ করে ফিরে গেছে, বাকি তিনজন চলেছিলাম অজানা লেকের অভিযানে… কিন্তু শেষ একজনও বিদায় নিয়েছে আমাদের থেকে। হারাধনের রইলো আর বাকি ২জন, সাথে আছেন দুই গাইড: নুং চ মং (প্রধান গাইড) আর থং প্রি মুং (সহচর গাইড)। চারজনের এই দলটা চলছে নাফা খুম অভিমুখে… এমন সময় ভেজা বালুতে পা দিতে গিয়ে… আটকে গেলাম আমি।

ব্যালেন্স হারালাম মুহূর্তে, এক হাত দিয়ে পাশের শক্ত বালুতে দ্রুত ধরলাম, আরেক হাতে ক্যামেরা, আমি পানির এক্কেবারে কাছে। আরেকটু হলে ক্যামেরাতে লাগতো পানি। সবাই-ই তটস্থ হয়ে উঠলো। আমি নিজের অবস্থা দেখে বুঝে গেলাম, মারাত্মক কিছু না, হালকা কাদা…। রাসেল এগিয়ে এলো, ওর হাতে ক্যামেরাটা দিলাম। দাদারা সহায়তা করতে চাইলো, আমি মানা করলাম। নিজেকেই উঠতে হবে। পা তুলতে গিয়ে বুঝলাম, ভালোই আটকেছে কাদায়। যাক, ভাগ্য ভালো চোরাবালিতে পড়িনি, নাহলে আটকানোটা আরো মজবুত হতো। টেনেটুনে পা যখন তুললাম, জুতা রয়ে গেছে পা থেকে খুলে। আবার নিচু হয়ে ওখানা তুলে এগোলাম সামনে।

অপূর্ব দৃশ্য: ডুবো পাথরে পা ধু'তে গেছি আমি আর দুই গাইড (ছবি: রাসেল)

অপূর্ব দৃশ্য: ডুবো পাথরে পা ধু’তে গেছি আমি আর দুই গাইড (ছবি: রাসেল)

আগেই বলেছিলাম, বড় বড় পাথর দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছ পানির নিচে, সেগুলোর একটাতে গিয়ে দাঁড়ালাম পা ধোয়ার জন্য। ঠান্ডা হীম পানিতে পা ভিজিয়ে উপরের রোদকে একটু বুড়ো আঙ্গুল দেখানো গেলো দেখে ভালোই লাগলো। সবাই-ই একটু হাত-মুখ ধুয়ে ঘামমুক্ত আর শীতল হয়ে নিলাম। বিস্তারিত…

অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান ২০১৩ : দ্বিতীয়াধ্যায় : পর্ব ১

প্রথমাধ্যায়: অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান : প্রথমাধ্যায়

থানচি থেকে ভাগ্যক্রমে তিন্দু, আর সেখান থেকে ভাগ্যক্রমে তিন্দুর অভিজ্ঞ চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনায় আমাদের অজানা লেকের সন্ধান লাভ (কাল্পনিক মানচিত্রে অবশ্য), এবং একজন গাইড নুং চ মং পাওয়া গেছে। সাথে রয়েছেন ওদিকে যাওয়া আরেকজন পাহাড়ি থং প্রি মুং। সুতরাং দুজন গাইডসহ আমরা তিনজন – আমি, রাসেল আর প্রভা, তিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করেছি, তখন অনেক বেলা হয়ে গেছে।

অজানা লেকের অভিযাত্রী ত্রয়ী, সাথে মূল গাইড নুং চ মং: (বাম থেকে: লেখক, গাইড, রাসেল এবং প্রভা) (ছবি: নাকিব)

অজানা লেকের অভিযাত্রী ত্রয়ী, সাথে মূল গাইড নুং চ মং: (বাম থেকে: লেখক, গাইড, রাসেল এবং প্রভা) (ছবি: নাকিব)

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ | ০৯:০০

তিন্দু বাজার থেকে নদীতে নেমে বায়ে গেলে থানচি, আর ডানে গেলে রেমাক্রি বা রেমকরি উপজেলা। আমরা নদীর পাড় ধরেই নাফা খুম যাবো, তাই গাইডের নির্দেশিত পথে ডানদিকে চলা শুরু করলাম।

ঢাকায়… আমার অফিসে, অফিস-লগ্ন শেষে Google Earth খুলে বসে আছি। আবু বকর তাঁর মূল্যবান সময় ব্যয় করে বসে আছেন আমার পাশে – আমাদেরকে একটা জুৎসই পরিকল্পনা করে দিতে। সব পাড়ার নাম আমার ম্যাপে নাই, তবু বাংলা ট্রেক^ আর তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে কয়েকটা জিপিএস (.gpx, .gdb ইত্যাদি) ফাইল নামিয়ে গুগল আর্থে বসিয়ে পাড়াগুলোর কয়েকটার নাম উদ্ধার করলেন। তারপর স্যাটেলাইট-চিত্রে একটা জায়গায় কার্সর রেখে বললেন, এটাই সম্ভবত পদ্মমুখ, কারণ এখানে সাঙ্গু এসে একটু বড় হয়েছে বলে জানি। ম্যাপে কার্সর রেখে বললেন: আপনারা এই যে এখান থেকে পদ্মমুখে যাবেন, তারপর নৌকা নিয়ে থানচিতে – দুটার আগে পৌঁছাতে পারবেন। এরপর আমি স্যাটেলাইট-চিত্রে একটা সরল রেখা টেনে ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখি মাঝখানে একটা লেকমতো…। আবু বকরকে জানালে তিনিও আশ্চর্য হলেন, আসলেই তো! এপর্যন্ত প্রকাশিত জিপিএস রিডিংগুলো বসানো হয়েছে, দেখা গেলো লেকটাকে মাঝখানে রেখে সবাই ডানে-বামে ঘুরাঘুরি করেছে। তাই ধরে নেয়া যায়, এই লেকে এখনও পর্যন্ত কেউ যায়নি। তখনই মাথার মধ্যে পোকাটা ঢুকে যায় আমার। বিস্তারিত…

অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান ২০১৩ : প্রথমাধ্যায় : পর্ব ৮

« আগের পর্ব

থানচি থেকে নাফা খুম রওয়ানা হয়ে দুষ্ট গাইডকে খসাতে শেষে উঠেছি তিন্দুতে। বহুকষ্টে তাকে খসিয়েও ঠিক খসাতে পারিনি, এখন চেষ্টা বিজিবি ক্যাম্পে আমাদের জন্য ক্ষতিকারক কোনো রিপোর্ট সে করার আগে আমরা একটা রিপোর্ট করি, তাতে আমাদের অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসনের একটা স্বচ্ছ ধারণা থাকবে। তিন্দু পাড়ার পাহাড় থেকে নেমে পাশের উঁচু পাহাড়ে তিন্দু বিজিবি ক্যাম্প। আমি আর রাসেল, টীমের পক্ষে উঠতে থাকলাম বিজিবি ক্যাম্পে।

তিন্দু বিজিবি ক্যাম্প থেকে তোলা বহির্দৃশ্য (ছবি: রাসেল)

তিন্দু বিজিবি ক্যাম্প থেকে তোলা বহির্দৃশ্য (ছবি: রাসেল)

বিজিবি ক্যাম্পে উঠার পথে পিছন ফিরে তাকাতেই… অপূর্ব দৃশ্য: তিন্দুতে গেলে ভালো একটা ছবি তোলার জন্য উত্তম স্থান হলো তিন্দু আর্মি ক্যাম্প কিংবা উঠার এই পথটা। পিছনে নদীর পুরো বাঁকটা দেখা যায় ক্যাম্প থেকে – সাধে কি আর বিজিবি এতো উপরে ক্যাম্প করেছে – এই প্লেইনের পাক্কা বার্ড আই ভিউ পায় তারা। নদীতে আমাদের দলটা গোসল করতে নেমেছে – বেশ হাকডাক শোনা যাচ্ছে।

ক্যাম্পে উঠার পথটা সিঁড়ি কাটা, উঠতে কষ্ট হলো না; তবে পরিশ্রমের পর উঁচুতে উঠায় যতটুকু পরিশ্রম আরকি। উপরে তাকালাম, ক্যাম্পের লোকজন আমাদের দিকে উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে। উপরে উঠে গেলাম সাহস করে। আশপাশ থেকে লুঙ্গি পরা, বিজিবি’র ডোরাকাটা টিশার্ট আর প্যান্ট পরা জোয়ানরা ঘিরে ধরলো আমাদেরকে। আমি কথা বললাম: আসসালামু ‘আলাইকুম। আমরা একটু আগে তিন্দুতে এসেছি, আজকে এখানে থাকবো; আপনাদের সাথে একটু কথা বলবো। বিস্তারিত…

অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান ২০১৩ : প্রথমাধ্যায় : পর্ব ৭

« আগের পর্ব

পায়দল থানচি থেকে নাফা খুম রওয়ানা, পথ-প্রদর্শক, মানে গাইড হলো খইশামু মারমা; হাঁটা পথ এনে তুললো নৌকায়, আর সেই নৌকা এসে ভিড়লো পদ্মমুখে। ফুরিয়ে যাওয়া তেল ভরে নিতে গিয়ে নৌকা যখন ফুরফুরে মেজাজে চলার কথা, তখন কয়েকজন লোক আমাদেরকে এই গাইড নিয়ে যেতে মানা করতে থাকলেন বেশ জোরেশোরে। মহা বিপদে পড়লাম!

আমরা যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, দলের ক'জন তখন পদ্মুঝিরি ধরে একটু ভিতরটা দেখতে গেল (ছবি: দানিয়েল)

আমরা যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, দলের ক’জন তখন পদ্মুঝিরি ধরে একটু ভিতরটা দেখতে গেল (ছবি: দানিয়েল)

নাকিব এসবে তেমন কিছুই যেন বুঝে না, রাসেল আর আমার মাথা খারাপ। আমি শুনছি খইশামু’র কথা, সে অকথ্য ভাষায় বলে ‘ঐ সাদা গ্যাঞ্জির সাথে কিসের কথা? ওই [অশ্রাব্য গালি]-রে নিয়ে যাও, আমি আর যাবো না’। আর, রাসেল শোনে ওপাশের কথা, ‘এই লোক আপনাদেরকে ভুল বোঝাচ্ছে’। …থানচি সম্পর্কে আমি মোটামুটি অজ্ঞ, রাসেল আবার তার বন্ধুদের অভিজ্ঞতায় থানচি সম্পর্কে কিছুটা হলেও জ্ঞান রাখে। তাই সব শুনে আমার আর নাকিবের সাথে আলোচনায় দাঁড়ালো: শোন্‌, আমার মনে হয়, নাফা খুম আজকে সম্ভব না। আমাদের মনে হয় সামনে তিন্দুতে চলে যাওয়া উচিত, ওখানে গেলে আর্মি ক্যাম্পও আছে, নিরাপত্তা থাকবে। কালকে সকালে উঠে তোরা থানচিতে ফিরতে পারবি। এই লোককে নিয়ে অগ্রসর হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

এদিকে আমি আমার ব্যাগটা কাঁধে তুলতে যেতেই… ক্যাঁট করে ফিতার একটা হুক ভেঙে এক কাঁধ পড়ে গেল। সামনে আরো বহু কঠিন ট্রেক বাকি, অথচ ব্যাগের এক কাঁধ ছেঁড়া!! মহাবিপদে পড়ে গেলাম। বিস্তারিত…

অজানা লেকের অভিযানে বান্দরবান ২০১৩ : প্রথমাধ্যায় : পর্ব ৬

« আগের পর্ব

নৌকা ভাড়ার অতিউচ্চমূল্য শুনে আমরা যখন ট্যুর বাতিল করার কথা ভাবছি তখন রাসেলই পায়দল থানচি থেকে রেমাক্রি হয়ে নাফা খুম পর্যন্ত যাবার বিধ্বংসী প্রস্তাব করেছিল, আর তা অনুসরণ করে যখন গাইড পাওয়া যাচ্ছিলো না, তখন গতরাতের আবাস-দাতা খইশামু মারমাকে গাইড করে আমরা শঙ্খ নদীর পাড়ে নেমে গেছি ১০জন তরুণ-তরুণী – হারাধনের দশ যক্ষের ধন। উদ্দেশ্য পায়ে হেঁটে চলে যাবো, যেখানে সবাই যায় ইঞ্জিন বোটে করে।

থানচি থেকে পায়ে হেঁটে ছুটে চলেছে দল, সাঙ্গুর অপূর্ব জলে পড়েছে তাদেরই ছায়া (ছবি: নাকিব আহমেদ)

থানচি থেকে পায়ে হেঁটে ছুটে চলেছে দল, সাঙ্গুর অপূর্ব জলে পড়েছে তাদেরই ছায়া (ছবি: নাকিব আহমেদ)

দলের সবাই-ই আমাদের পরামর্শমতো নিজেদেরকে এই দীর্ঘ পথের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছে। কেউ কেউ একটু পরে হলেও জিন্সের প্যান্ট-ট্যান্ট ছেড়ে ট্রেকিং-এর উপযোগী ঢিলেঢালা পোষাকে আবির্ভূত হয়েছে। হাঁটুতে সবাই-ই পরে নিয়েছে নী-ক্যাপ, আর গোড়ালিতে অ্যাংকলেট।

দলের সবাই-ই পুরুষ, একমাত্র দিবারাহ-ই নারী, তাই স্বভাবতই মনে হতে পারে ‘পারবে কি ও’? বিস্তারিত…

%d bloggers like this:
Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On Google PlusVisit Us On YoutubeVisit Us On LinkedinVisit Us On PinterestCheck Our Feed